Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post.html

পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন করা কি সম্ভব?

 

কক্ষপথ কী?

ছোটো বেলায় সবাই পড়েছি যে পথে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ সূর্যকে আবর্তন করে, তাকে কক্ষপথ বলে। যদি বিস্তারিত ভাবে বলতে যাই তবে কক্ষপথ ( Orbit) বলতে কোন একটি বস্তুর কেন্দ্রমুখী বলের প্রভাবে অপর একটি বস্তুর চারদিকে ঘোরার পথকে বোঝায়।

পদার্থবিদ্যায় কক্ষপথ বলতে বুঝায় মহাকর্ষীয় বলের ফলে কোন বস্তুর বক্র পরিক্রমন পথ। উদাহরণ স্বরূপ একটি নক্ষত্রকে ঘিরে কোন গ্রহের প্রদক্ষিণ করাকে কক্ষপথ বলে।

আমরা সবাই জানি পৃথিবী সূর্য কে কেন্দ্র করে ঘোরে, অর্থাৎ পৃথিবীর কক্ষপথ হচ্ছে সূর্য। আমরা এও জানি পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস সূর্য। সূর্যের অভ্যন্তরে অনবরত হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হচ্ছে আর তার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অত্যধিক শক্তি। যার কারণে অনেকেই সূর্যকে তুলনা করেছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এক পারমাণবিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে।

এটি যেমন আমাদের সকল শক্তির উৎস, সেই সাথে এর সাথে জড়িত ঝুঁকি ও কিন্তু কম নয়।খেয়াল করলে দেখবেন গত কয়েক বছর পৃথিবীর তাপমাত্রা কেমন বেড়ে চলেছে। সূর্য আমাদের প্রায়  ৪৫ কোটি বছর ধরে আলো দিয়ে চলেছে


এবং এটি নিয়মিতই  জ্বলছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে আগামী কয়েক বিলিয়ন বছর পরে সূর্য তার সকল জ্বালানি হারাতে শুরু করবে সেই সাথে ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে শুরু করবে। ফলে এখন যেমন সূর্য আমাদের সকল শক্তির যোগানদাতা তখন এটিই হবে আমাদের সবচাইতে বড় বিপদ!

কারণ সূর্যের যদি প্রসারণ ঘটে তবে কোনো না কোনো সময় এটি পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলবে। তাহলে এর থেকে বাঁচার উপায় কি?


একমাত্র উপায় হচ্ছে যদি কোনো ভাবে পৃথিবীকে তার কক্ষপথ থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেয়া যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেটা কতটুকু সম্ভব। আদৌ কি পৃথিবীকে তার কক্ষপথ থেকে সরানো যাবে?
যদি ও পৃথিবীকে তার কক্ষপথ থেকে সরানো তত্ত্বগতভাবে অসম্ভব নয়, তবে সেটা সময়ই বলে দিবে।
 



গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের গৃহের কাছাকাছি অবস্থান করা কিছু গ্রহাণুকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে প্রযুক্তির সাহায্যে যেগুলো যে কোনো সময় পৃথিবীর উপর আঘাত হানতে পারত। 

কিন্তু পৃথিবীর তুলনায় এসব গ্রহাণু অতি ক্ষুদ্র থাকায় এদের পৃষ্ঠে নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ বা  দ্রুতগামী মহাকাশযানের সাথে সংঘর্ষের মাধ্যমে এদের কে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। আবার কখনো কখনো স্পেসক্রাফট ব্যবহার করে এদের কে অবিরামভাবে মহাকর্ষ বলের বিপরীতে চালনা করা হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর বেলায় সেটি সম্ভব নয়।

তাহলে কী কী উপায়ে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন সম্ভব।

চলুন দেখে নেয়া যাক....
আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক তত্ত্বের সাহায্যে পৃথিবীকে তার কক্ষপথ সরিয়ে নেবার উপায় বের করা সম্ভব। যেমন অতি বিশাল টেলিপোর্টার তৈরি করে ( টেলিপোর্টেশন বা টেলিট্রান্সপোর্টেশন হল পদার্থ বা শক্তিকে এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে তত্ত্বীয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে বোঝায়) পৃথিবীকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংকে ভাগ করে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে আবার জোড়া লাগানো। 

আবার পৃথিবীর অর্ধেক অংশকে রুপা দিয়ে মুড়িয়ে ও কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নেয়া যেতে পারে ( এক্ষেত্রে আলোর ভরবেগ কাজ করে) অথবা পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত গর্ত করে জ্বালানী উদগীরণের মাধ্যমে ও পৃথিবীকে সরিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে উপায় গুলো কতটুকু কার্যকর হতে পারে তা সময় ই বলে দিবে। চলুন কিছু প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হওয়া যাক যে গুলোর সাহায্যে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন করা সম্ভব।
 

ইলেক্ট্রিক থ্রাস্টার (Electric thruster)

খেয়াল করে দেখবেন যখন ই কোনো মহাকাশযান উড্ডয়ন শুরু করে এটি ভূমি থেকে প্রচণ্ড গতিতে জ্বালানি শক্তি খরচ করে উপরে উঠতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় যে কম্পন সৃষ্টি হয় তার প্রভাবে পৃথিবী তার কক্ষপথ থেকে কিছু টা সরে যায়। গুলি করার সময় বন্ধুক যেমন পিছনে সরে আসে তেমন। 

কিন্তু আসল কথা এই কম্পন পৃথিবীকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেবার ক্ষেত্রে অতি নগণ্য। এ যাবৎ যত গুলো মহাকাশযান ব্যবহার করা হয়েছ "SpaceX"  এর "Falcon Heavy"  হচ্ছে বহুল ব্যবহৃত মহাকাশযান।

এই রকম ৩০০ বিলিয়ন বিলিয়ন মহাকাশ যান ব্যবহার করলে এদের থেকে তৈরি হওয়া কম্পনের ফলে পৃথিবীকে তার কক্ষপথ থেকে মঙ্গলের দিকে ১৫% সরিয়ে নিতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে ইলেক্ট্রিক থ্রাস্টার (Electric thruster) বেশি কার্যকর হতে পারে।


ইলেক্ট্রিক থ্রাস্টার (Electric thruster) হচ্ছে সেই যন্ত্র যেখানে আয়নিত কণাসমূহের প্রবাহে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর ফলে এরা গতিশক্তির সৃষ্টি করে এবং সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। এসব থ্রাস্টার পৃথিবী পৃষ্ঠে স্থাপন করে পরিচালনা করলে হয়তো আমাদের পৃথিবীকে কক্ষচ্যুত করে নতুন কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব।

উচ্চশক্তির আলোর সাহায্যে

আমরা জানি আলোর কোনো ভর নেই কিন্তু ভরবেগ আছে। সেক্ষেত্রে আলোর ভরবেগের সাহায্যে ও পৃথিবীকে সরিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে তার জন্য লাগবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর, যা বিরামহীন ভাবে ফোকাসড বিম হিসেবে বের হতে থাকবে। 

এক্ষেত্রে লেজার রশ্মির (laser ray) উদাহরন নেয়া যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলোকে প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে তবে বিজ্ঞানীদের মতে এমুহূর্তে সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।


আন্তঃগ্রহ বিলিয়ার্ড

এই পদ্ধতি অনেকটা বিলিয়ার্ড খেলার মতই। এই পদ্ধতিতে প্রত্যেক টা গ্রহই বিলিয়ার্প বল। কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান দুটি বস্তুর মধ্যে ভরবেগের বিনিময় এবং এদের বেগের পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি খুবই গ্রহণযোগ্য। 

মূলত বস্তু দুটির মধ্যে প্যাসেজ তৈরির মাধ্যমে কিংবা মহাকর্ষ গুলতির (Gravitational Slingshot) মাধ্যমে এই ভরবেগের বিনিময় করা সম্ভব। সাধারণত গ্রহসমূহের অন্তর্বর্তী মহাকাশযানসমূহে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
 
পৃথিবীকে আদৌ তার কক্ষপথ থেকে সরানো সম্ভব কি না তা সময়ই বলে দিবে। উপরে যে উপায় গুলো বর্ণনা  করা হয়েছে সেগুলো বিজ্ঞানের  বিভিন্ন তাত্ত্বিক গবেষণা এবং হিসাব নিকাশের ফলাফল।

অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য সম্ভাব্য উপায় গুলো বাস্তবায়ন করাই এখন বিজ্ঞানের মূল চ্যালেঞ্জ। নয়তো পৃথিবীতে অবস্থানকারী সকল কিছুই বিলীন হয়ে যাবে সূর্যের করাল গ্রাসে।
 আজ এ পর্যন্তই। বিজ্ঞানের এমন বিস্ময় সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে। আর কোনো বিষয় জানার থাকলে কমেন্ট করুন। 


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া