Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post_12.html

আইফোন/আইপ্যাডে অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজ করার সহজ ৩ উপায়

 আমাদের জীবনে প্রায়শই নানান ক্ষেত্রে প্রাইভেসির প্রয়োজন পড়ে। আমরা চেষ্টা করি বিভিন্ন উপায়ে কিছু জিনিস একান্তই ব্যক্তিগত রাখার। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন বোধয় অনলাইনে প্রাইভেসি রক্ষা করা। যতই আমরা চেষ্টা করি কোনো না কোনো ভাবে আমাদের একটিভিটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করা হয় এবং আমাদের পছন্দ-অপছন্দ জেনে নিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন বিজনেসের টার্গেট কাস্টমার বানানোর জন্য স্ট্র্যাটেজি চলতে থাকে। আমি বলছি না সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং খারাপ। কিন্তু যে কারুর ইচ্ছা হতেই পারে যে তার ব্রাউজিংটা একান্তই প্রাইভেট থাকুক। আপনি যদি একজন আইফোন বা আইপ্যাড ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন ও চান অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজিং করতে; তবে আজকের লেখাটি আপনারই জন্য।



কেন আমরা অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজিং করবো?

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে আমি তো কোনো বেআইনি বা অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত না তাহলে আমাকে কেন ব্রাউজিং প্রাইভেট রাখতে হবে? কিংবা অজ্ঞাতভাবে(Anonymously) ব্রাউজ করতে হবে? কারণটা খুব সাধারণ। বর্তমানে অনেক কোম্পানির মূল বিজনেস মডেল দাঁড়া করানো হয় ইউজারদের থেকে কালেক্টেড তথ্য নিয়ে। আমাদের প্রতিটি একটিভিটি ট্র্যাক করা, আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা রীতিমতো ব্যবসার মূল রিসোর্স হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও, অনলাইন এক্টিভিটির উপর সরকারী বিভিন্ন নজরদারির ঘটনা ঘটছে অনেকক্ষেত্রেই। এসবকিছু এড়াতে চাইলে আসলে অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজিং করা একটা সেইফ অপশন। আইফোনের ক্ষেত্রে যদি বলি, এপল বরাবরই তার ইউজারদের প্রাইভেসির দিকে কড়া নজর রাখতে চেষ্টা করেছে। আজ তারই একটা অংশ, অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজিং নিয়ে লিখছি।

১. Onion Browser

২০১২ সালে পেইড এপ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এপটি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে এটাকে ফ্রি ঘোষণা করে দেয়ার পর। এই ব্রাউজার টর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সকল ওয়েব ট্রাফিককে এনক্রিপ্ট করার চেষ্টা করে যেন আপনি ওয়েব অজ্ঞাত থাকতে পারেন। এর কয়েকটি প্রাইভেসি বেনিফিট জেনে নিন:

১. ওয়েবসাইটগুলো আপনার বাস্তব আইপি এড্রেস জানতে পারবে না, ফলে আপনার লোকেশন থাকছে অজ্ঞাত।

২. এমনকি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররাও জানতে পারবে না যে আপনি কি ব্রাউজ করছেন।

৩. ভৌগলিক বাঁধা পেরিয়ে যেকোনো এলাকার ওয়েবসাইট এক্সেস অন্য এলাকা থেকে উপভোগ করতে পারবেন।

এই ব্রাউজার ব্যবহার করা একদমই কঠিন কিছু না। শুরুতে ব্রাউজারে ঢুকলে Connecting লেখা একটা স্ক্রিন দেখাবে এবং মিনিট খানেকের মধ্যে ব্রাউজারটি কাজ করতে শুরু করবে এবং নিচের ছবির মতো সাক্সেস মেসেজ দেখতে পাবেন।


এখন থেকে আপনি অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজিং চালিয়ে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে বলে রাখি, ব্রাউজারটি মূলত এর মধ্য থেকে ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে। আপনি যদি এর মাধ্যমে এমন এক সাইটে লগিন করেন যেখানে আগে থেকেই আপনার ইনফরমেশন স্টোর করা, সেখানে কিন্তু আপনি এই ব্রাউজার দিয়েও অজ্ঞাত থাকতে পারবেন না। তাছাড়া আরেকটা সমস্যার কথা বলতে হয় যা হচ্ছে ব্রাউজারটি অন্যগুলোর তুলনায় লোডিংয়ে কিছুটা স্লো। কেননা, এটাকে প্রতিনিয়ত ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে আপনাকে অজ্ঞাত রাখতে হচ্ছে।

২. TunnelBear

টানেলবেয়ার একটা জনপ্রিয় ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ভিপিএন সার্ভিস। এই ব্রাউজারের ফ্রি ভার্সন প্রতিমাসে আপনাকে ৫০০ এম্বি পরিমাণ ফ্রি ডাটা ও পাশাপাশি আমেরিকা, ইউনাইটেড কিংডম, ইন্ডিয়া সহ প্রায় ২০ টি ভিন্ন লোকেশন থেকে ব্রাউজ করার সুবিধা দেবে। তাছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ভিপিএন সার্ভিস রয়েছে আইফোনের জন্য, যেগুলো একবার দেখে নিতে পারেন চাইলে। এবার চলুন দেখি, ভিপিএন দিয়ে কিভাবে আপনি ইন্টারনেটে অজ্ঞাত থাকতে পারেন:

১. প্রকৃত আইপি এড্রেস লুকিয়ে ফেলে ফলে আপনার লোকেশন হয়ে যায় অজ্ঞাত।

২. কোনো পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় সকল ডাটা এনক্রিপ্ট করে রাখে ফলে কেউ সেগুলো চুরি বা অপব্যবহার করতে পারে না।

৩. ভিপিএন আপনার ফেইক লোকেশন তৈরি করতে পারে যার মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য রাখা সাইট, আপনার এলাকায় বসেও উপভোগ করতে পারেন।

টানেলবেয়ার দিয়ে কাজ করাও বেশ সহজ। প্রথমবার যখন আপনি প্রবেশ করবেন তখন এটা আপনাকে একটা নতুন একাউন্ট খুলতে বলবে। Allow তে ট্যাপ করুন। পরবর্তীতে ভিপিএন কনফিগারেশনগুলো ইনস্টল করে নিন।



পরবর্তী ধাপ হলো আপনার ইমেইল এড্রেসটি কনফার্ম করা ও Continue তে ট্যাপ করা।



টানেলবেয়ার সচলাবস্থায় অনেকটা এমন দেখাবে।



অনিয়ন ব্রাউজারের সাথে তুলনা করলে বলা যায় টানেলবেয়ারে অজ্ঞাত রাখার পাশাপাশি ওয়েবসাইট লোডিং স্লো করে দেয় না। এটা একটা চমৎকার দিক।

৩. DuckDuckGo Search Engine

এটি একটি প্রাইভেট সার্চ ইঞ্জিন যা দাবি করে যে এটা আপনাকে ট্র্যাক করে না। সাধারণত আপনি কোনো সার্চ রেজাল্টে ক্লিক করলে সেই সাইটে সার্চ টার্ম পৌঁছে যায়, আপনার আইপি এড্রেস শেয়ার হয়ে যায় এবং সার্চ হিস্টোরি সেইভ হয়ে যায়।

ডাকডাকগো এগুলোর একটিও ফলো করে না বলে তাদের দাবি। তবে একটা কথা জানাতেই হয় যে, এরা কিন্তু শুধু আপনার সার্চগুলোকে অজ্ঞাত রাখে। এছাড়া এদের রয়েছে  (!)bang ফিচার। ধরুন আপনি গুগলে অজ্ঞাতভাবে সার্চ করতে চান, তাহলে আপনার যেকোনো সার্চের সাথে !g যুক্ত করুন। আপনি ট্র্যাকড হওয়া ছাড়াই সার্চটি সম্পন্ন করতে পারবেন।


ছবি সংগৃহীতBeebom.com

আইফোন/আইপ্যাডে ব্রাউজ হোক অজ্ঞাতভাবে

প্রাইভেসি রক্ষার একটা বড় উপায় হচ্ছে অজ্ঞাতভাবে ব্রাউজ করা। আর তাই এপলের ফোন ইউজাররা কিভাবে এই কাজটি করতে পারেন সেটিই বর্ণনা করেছি আজকের আর্টিকেলে। আশা করছি আপনাদের কাজে লাগবে। লেখাটি শেয়ার করতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, কমেন্টে জানাতে পারেন আপনার মতামত। সকলের সর্বাঙ্গীন সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া