Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post_19.html

যেভাবে বেছে নেবেন সেরা মেমোরি কার্ডটি

 আমরা অনেকেই অনেকরকমের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। প্রতিনিয়ত বাজারে আসছে একটার চেয়ে একটা অসাধারণ স্মার্টফোন। কোনো কোনোটার ইন্টারনাল স্টোরেজ বেশ ভাল হয়ে থাকে, আবার কোনো কোনোটোর ফোন মেমোরি বা ইন্টারনাল স্টোরেজ আমাদের জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় আমাদেরকে একটা এক্সট্রা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করতে হয়।

বাজারে অনেকরকমের মেমোরি কার্ড যাওয়া যায়। আসল-নকল, ভালো-মন্দ এসবের প্রচুর কনফিউশনও চলে মেমোরি কার্ড নিয়ে। জেনে শুনে একটা ভালো ও টেকসই মেমোরি কার্ড কিনতে পারা বেশ কঠিন কাজ। আর তাই আমি আজকের আর্টিকেলে তুলে ধরবো সে সবকিছু, যা একটা মেমোরি কার্ড কেনার আগে আপনার জানা থাকতে হবে।



১. স্পেসিফিকেশন ও উপযোগিতা

প্রধানত তিন ধরনের মাইক্রো এসডি কার্ড বা মেমোরি কার্ড বাজারে প্রচলিত।

● SDSC অথবা SD (Secure Digital Standard Capacity)

এর ক্যাপাসিটি রেঞ্জ ১২৮ এম্বি থেকে ২ জিবি। এতে FAT16 file system ব্যবহৃত হয় এবং SD, SDHC ও SDXC সাপোর্টেড ডিভাইসে কাজ করে। যেমন: SanDisk 2GB microSD

● SDHC (Secure Digital High Capacity)

এর ক্যাপাসিটি রেঞ্জ হয় ৪ জিবি থেকে ৩২ জিবি।
ব্যবহৃত হয় FAT32 file system। কেননা SDHC আসলে SDSC অপেক্ষা ভিন্নভাবে কাজ করে। এই ফরম্যাটটি, শুধুমাত্র SD এক্সেপ্ট করে এমন ডিভাইসের জন্য কম্প্যাটিবল না। উদাহরণস্বরূপ: Lexar 32GB microSD। SDHC কার্ড কেনার সময় অবশ্যই SDHC লোগো দেখে নেবেন।

● SDXC (Secure Digital Extended Capacity)

এদের ক্যাপাসিটি রেঞ্জ হয় ৬৪ জিবি থেকে ২ টেরাবাইট এবং ব্যবহৃত হয় exFAT file system। কেননা এটি আসলে SDSC ও SDHC অপেক্ষা ভিন্নভাবে কাজ করে। এই ফরম্যাটটি, শুধুমাত্র SD ও SDHC এক্সেপ্ট করে এমন ডিভাইসের জন্য কম্প্যাটিবল না। যেমন: SanDisk 200GB microSD
SDXC কার্ড কেনার আগে অবশ্যই লোগো দেখে নিন।



২. ব্র্যান্ডস

যখনই মেমোরি কার্ড কিনবেন, আপনার উচিত হবে একটা ভালো ব্র্যান্ড থেকে কেনা। কিছুটা দামী হয়তো হবে, কিন্তু আপনার ডাটাগুলো সেইফ থাকবে। খুব সহজেই ফুটপাথ বা চোরাই বাজার থেকে হয়তো কম দামে একটা মেমোরি কার্ড কিনে নিতে পারবেন কিন্তু আপনার মূল্যবান ডাটাগুলো এখানে মোটেও সুরক্ষিত নয়। অপরদিকে একটা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে জিনিসটি কিনলে সেখানে একই সাথে বেটার পারফরমেন্স, নির্ভরযোগ্যতা, ও নিরাপত্তা সবই নিশ্চিত থাকছে। তাছাড়াও এরা ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। ডাটা রিকভারি সুবিধা দিয়ে থাকে। কয়েকটি পপুলার ব্র্যান্ড:

৩. ক্যাপাসিটি

সবচেয়ে পুরোনো স্পেসিফিকেশনের এসডি কার্ড ক্যাপাসিটি ২ জিবি পর্যন্ত। এরপর SDHC ৩২ জিবি এবং SDXC প্রায় ২ টেরাবাইট পর্যন্ত। এন্ড্রয়েড ডিভাইসের ক্ষেত্রে আমাদের দেখা উচিত যে এটি সবচেয়ে বেশি যত ক্যাপাসিটি সাপোর্ট করে। যেমন কোথাও ১২৮ জিবি এক্সপান্ডেবল মেমোরি কার্ড লিখা থাকলে বুঝায় ১২৮ জিবি পর্যন্ত ক্যাপাসিটিযুক্ত মেমোরি ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে SDXC যেহেতু ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবল, অর্থাৎ যেখান থেকে মেইনলি ক্যাপাসিটি শুরু তারচেয়েও পেছনের বা ক।এর ক্যাপাসিটি অনুযায়ীও ব্যবহার করতে পারবেন, সুতরাং এটা বেছে নেয়াই ভালো।

৪. স্পিড ক্লাস রেটিং

কোন মেমোরি কার্ডের ট্রান্সমিশন স্পিড কেমন তা নিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে কেননা এটা একেক কোম্পানির একেক স্ট্রাকচারে বানানো কার্ডের মধ্যে ভ্যারি করে। এক্ষেত্রে SD Association ও কোনো নির্দিষ্ট স্পিড কারুরটা বলে দেয় না, তবে স্পিডের ভিত্তিতে কার্ডগুলোকে বিভিন্ন স্পিড ক্লাসে ভাগ করে।

● SD Speed Class

এতে ২,৪,৬,১০ ইনক্লুডেড থাকে এবং মিনিমাম রাইট স্পিড মাপা হয় mb/s হিসেবে। যেমন একটি ক্লাস ২ মাইক্রোএসডি কার্ডের রাইট স্পিড ২ mb/s, ছবি-ভিডিও বা গান ইত্যাদি স্টোরের ক্ষেত্রে।



ক্লাস ২ কার্ডগুলো অনেকটা স্লো, এভয়েড করাই ভাল। ক্লাস ৪ এর গুলো বেশ সাশ্রয়ী সাপোর্ট দিতে পারে যদি আপনার ব্যাসিক চাহিদা থেকে থাকে।

কিন্তু ফুল এইচডি ভিডিও কিংবা Raw ফটোসের মতো সুবিধা দিয়ে চমৎকার এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম ক্লাস ১০ কার্ড। বিশেষ করে ক্যাপচার করা বা ফাইল ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুবিধাজনক এই ক্লাস। এসডি কার্ডের ক্লাস বোঝা খুব সহজ। যেমন এই ছবিতে ক্লাস ৪ এবং ক্লাস ৬ এর কার্ড রয়েছে।



● UHS স্পিড ক্লাস
স্মার্টফোনের ক্যামেরাগুলো দ্রুতগতিতে আপগ্রেডেড হচ্ছে। অপটিক্যাল ইমেইজ স্ট্যাবিলাইজেশনসহ হাই রেজুলেশন ফটো, হাই ডায়নামিক রেঞ্জ, স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ডিং সহ চমৎকার সব ফিচার যুক্ত হচ্ছে।
এক্ষেত্রে UHS একটি বিশেষ ডাটা বাস ইন্টারফেইস ব্যবহার করে উচ্চ মাত্রার রিড-রাইটের কাজের জন্য

UHS I এর bus speed — 35, 50, and 104MB/s

UHS II এর bus speed — 152 and 312 MB/s

এই বাসগুলো মিনিমাম রিড/রাইটের জন্য ক্লাস ১ (এটলিস্ট ১০ এমবিপিএস) গ্রেড ব্যবহার করে এবং মিনিমাম রাইটিং এক্সপেরিয়েন্সের জন্য ব্যবহার করে ক্লাস ৩ ( এটলিস্ট ৩০ এমবিপিএস) গ্রেড। হাই রেজুকেশন ছবি ও 4k ভিডিওর জন্য UHS-I ক্লাস ৩ গ্রেড যথেষ্ট হয়ে থাকে। U শেইপের মধ্যে লিখে রাখা সংখ্যার মাধ্যমে সহজেই নির্ণয় করা যায় এর ক্লাস। যেমনটি ছবিতে দেখছেন।



৫. Android Version

এন্ড্রয়েডের এসডিকার্ড সাপোর্ট বরাবরই লিমিটেড ছিল। এর সাহায্যে গান, ভিডিও, ছবি ইত্যাদি স্টোর করা যায়। যদিও এন্ড্রয়েড ভার্সন ৬ এ এডাপ্টাবল কার্ড ফিচার আনা হয়েছে যার দ্বারা মেমোরি কার্ডকে ইন্টারনাল স্টোরেজের মতো ব্যবহার করা যায়। এটা স্থায়ীভাবে মেমোরির অংশ হয়ে উঠবে এবং এর রিমুভ করা যাবে না। সুতরাং এটি যদি স্লো বা ভালো কোয়ালিটির না হয় তাহলে পুরো স্টোরেজের উপর এর বাজে প্রভাব পড়বে। আপনার ফোন যদি ৩২ জিবির হয় তাহলে এক্সটার্নাল কার্ড ইউজ করুন ৩২ জিবি SDHC ক্লাস ১০ এর।



ছবি সংগৃহীত: Beebom.com

মাইক্রো এসডি কার্ড কেনার সময় মাথায় রাখুন এ বিষয়গুলো

আমাদের অনেকের কাছেই মেমোরিতে স্টোর করা ডাটা বা স্মৃতিগুলো ভীষন মূল্যবান। তাই সেগুলোর নিরাপত্তার প্রতিও নিশ্চয়ই আমাদের মনযোগ দেয়া উচিত? আর সেজন্যই আজকের লিখায় আমি তুলে ধরেছি একটি মাইক্রোএসডি বা মেমোরি কার্ড কেনার সময় কি কি বিষয় মাথায় রাখলে আমরা আমাদের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সেইফ থাকার চেষ্টা করতে পারবো। আশা করছি বিষয়গুলো আপনাদের কাজে লাগবে। লেখাটি শেয়ার করে দিন এবং কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত জানান। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া