Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post_2.html

রাউটারের কোন সেটিংসটি পরিবর্তন করা উচিত

 ইন্টারনেট বর্তমান সময়ের একটি অপরিহার্য বিষয়। খুব কম মানুষই পাওয়া যাবে যারা ইন্টারনেট এর সাথে পরিচিত না। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করতেই হবে। 

ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারিদের মাঝে পরিচিত একটি শব্দ রাউটার।আজকে রাউটারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক করে তুলবে। 

তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

 

ইন্টারনেট সিকিউরিটি 

ইন্টারনেট সিকিউরিটি বর্তমান সময়ে এটি অপরিহার্য বিষয়। সর্বপ্রথম যে ইন্টারনেট সিকিউরিটি সিস্টেমটি চালু করা হয়েছিলো তার নাম ছিল ডব্লিউ-ই-পি (WEP) অর্থাৎ (Wired Equivalent Privacy)। 

কিন্তু এই সিকিউরিটি সিস্টেমটির ৬৪ বিটের ইনক্রিপশন  ছিলো যা একঘুগের ও আগের কথা। যাই হোক, এই ডব্লিউ-ই-পি সিকিউরিটি সিস্টেমটি নষ্ট করা অনেক সহজ একটি ব্যাপার ছিল। একটি সাধারন কম্পিউটারে ব্রুট ফোর্স অ্যালগোরিদম (Brute Force Algorithm) ব্যবহার করে এই সিকিউরিটি সিস্টেমটি অনেক সহজেই নষ্ট করা যেত।

ব্রুট ফোর্স অ্যালগোরিদম হলো এমন একটি সিস্টেম যেখানে সকল সম্ভাব্য পাসওয়ার্ডকে বারবার ব্যবহার করে কোনো সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।

 

 ২০০৬ সালে এর নতুন একটি সিকিউরিটি সিস্টেম চালু করা হয়েছিল এবং এর নাম ছিল ডব্লিউ-পি-এ WPA (Wifi protected access)। তো এটি ডব্লিউ-ই-পি  (Wired Equivalent Privacy) এর তুলনায় কিছু বেশি শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তখন সকল রাউটার গুলোতে আপডেট প্রদান করা হয়েছিলো যে তারা ডব্লিউ-ই-পি থেকে যেন ডব্লিউ-পি-এ তে চলে যায়। 

এই আপডেট দেওয়ার সময় অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং ডব্লিউ-পি-এ সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ডও নষ্ট করা তেমন কঠিন ছিল না।

 এর পরে আরেকটি নতুন সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আসা হয়, যার নাম ডব্লিউ-পি-এ ২ এ-ই-এস (WPA2 AES)। এটি ডব্লিউ-পি-এ এর একটি দ্বিতীয় সংস্করণ। এবং এটি কাজ করে এ-ই-এস এর উপর। এ-ই-এস মানে অ্যাডভান্সড ইনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড। 

এটি এমন একটি ইনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড যেটাকে যদি একটি সর্বাধুনিক কম্পিউটার দ্বারা  ব্রুট ফোর্স অ্যালগোরিদম (Brute Force Algorithm) ব্যবহার করে  নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় , তবে এতে প্রায় কয়েক হাজার বছর লেগে যাবে।

 

তো পিছনের ২-৩ বছর আগে যদি আপনি একটি রাউটার কিনে থাকেন তবে অবশ্যই সেখানে ডব্লিউ-পি-এ ২ (এ-ই-এস) অপশন আছে পাসওয়ার্ড এর জন্য। এবং আপনি যদি এখনো অন্য কোনো সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে থাকেন তবে অবশ্যই সেটি সরিয়ে ডব্লিউ-পি-এ ২ এ-ই-এস (WPA 2 AES) চালু করে নিন। 

এতে মনে করুন আপনার সিকিউরিটি নষ্ট করা এক প্রকারের অসম্ভব।

ওয়াই-ফাই পারফর্মেন্স 

ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর পারফর্মেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াই-ফাই একটি রেডিও টেকনোলজি  যা অন্যান্য রেডিও টেকের মত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির উপর কাজ করে। ওয়াই-ফাই এর জন্য নির্ধারিত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ২.৪ গিগাহার্জ। তবে বর্তমানে ৫ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি ও ব্যবহার করা হয়।  

ওয়াই-ফাইতে সর্বপ্রথম ২.৪ গিগাহার্জ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হতো তবে অন্যান্য রেডিও টেকনোলজিতে এই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারের কারণে সিগন্যাল আদান প্রদানে এটি তালগোল পাকিয়ে ফেলত। তাই এখন প্রায় সব গুলো রাউটারে ২.৪ গিগাহার্জের পাশাপাশি ৫ গিগাহার্জ ব্যবহার করা হয়।

 চলুন তবে জেনে নেয়া যাক ২.৪ গিগাহার্জ আর ৫ গিগাহার্জ এর পার্থক্য।

২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ এর পার্থক্য 

সাধারণভাবে দেখতে গেলে দুটি একই ব্র্যন্ডের ফ্রিকোয়েন্সি কিন্তু এদের মধ্যে মূল পার্থক্য স্পিডে। ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ড ৬০০ মেগাবাইট/সেকেন্ড এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড ১৩০০ মেগাবাইট/সেকেন্ড পর্যন্ত স্পিড দিতে সক্ষম, তবে এতে রাউটারের ক্লাস গুরুত্বপূর্ণ!

 

আগেই বলেছি ২.৪ গিগাহার্জ আরো কিছু রেডিও টেকনোলজিতে ব্যবহার হতো। পুরাতন কর্ডলেস ফোন, ব্লুটুথ, কিছু রিমোট কন্ট্রোল, এমনকি আপনার বাড়ির মাইক্রোওয়েভ ওভেনও ২.৪ গিগাহার্জ ফিকোয়েন্সিতে কাজ করে। 

এতগুলো ডিভাইস একই ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করার জন্য ২.৪ গিগাহার্জ ওয়াইফাই ব্যান্ড সহজেই এই একই টাইপের সিগন্যাল গুলোর সাথে গণ্ডগোল পাকিয়ে যেতে পারে। 

কিন্তু এর একটি সুবিধাও রয়েছে, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি যতো কম হয় এর রেঞ্জ কিন্তু ততো বেশি হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই এটি কম স্পিড প্রদান করলেও, রেঞ্জের ক্ষেত্রে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড থেকে এটি এগিয়ে থাকবে।

যদিও ২.৪ গিগাহার্জ সিগন্যাল অনেক ড্রপ করে, কেননা এর প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, কিন্তু বেশিরভাগ ওয়াইফাই এনাবল ডিভাইস ২.৪ গিগাহার্জকেই সমর্থন করে। আজকের মডার্ন ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, বা ট্যাবলেট যদিও ৫ গিগাহার্জ সমর্থন করে, কিন্তু তারপরেও ২.৪ গিগাহার্জ সমর্থনকারীই বেশি রয়েছে।

এবার যদি কথা বলি ৫ গিগাহার্জ নিয়ে, ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড ওয়াইফাই নতুন ফ্রিকোয়েন্সি, যেহেতু অনেক কম ডিভাইস এটি ব্যবহার করে তাই এই সিগন্যাল গোলমাল পাকিয়ে যাওয়া কিংবা সিগন্যাল ড্রপিং সমস্যা অনেক কম হয়। 

সাথে এর রেঞ্জও কম হয়, কেননা আগেই বলেছি, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হলে রেঞ্জ কমে যায়। কিন্তু এর স্পিড অনেক বেশি হয়ে থাকে, আপনি যদি এর সিগন্যালের মধ্যে থাকেন অবশ্যই শক্তিশালী স্পিড পেতে সক্ষম হবেন।

ডি-এন-এস (DNS)

রাউটারের স্পিড এর ক্ষেএে ডি-এন-এস (DNS) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ইন্টারনেট সার্ভিস হোল্ডার আপনাকে ডি-এন-এস (DNS) সরবরাহ করে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে ভালো স্পিড পাওয়া যায় না। 

এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন থার্ড পার্টি ডি-এন-এস (DNS) ব্যবহার করা যায়। যেমন; Google Public DNS, এটি ব্যবহার করে আপনি যেমন অধিক স্পিড পাবেন তেমনি এটি অনেক বেশি সিকিউর ও বটে। 

অনেক সময় দেখা যায় ডিভাইসে কিছু লিখতে গেলে টাইপ করার পরে অনেক সময় পরে লিখা আসে যেটা মূলত ডি এন এস সমস্যা নির্দেশ করে। আবার আপনার যদি দুইটা রাউটার থাকে এবং সেক্ষেএে যদি ডি-এন-এস (DNS) সমস্যা পরিলক্ষিত হয়, তবে আপনি WDS (Wireless distribution system) ব্যবহার করতে পারেন। 

যখন দুইটি রাউটার একসাথে ব্যবহার করা হয় তখন এদের সিগন্যাল আদান প্রদানে বাধা পাওয়ার কারণে ইন্টারনেট স্পিড কমে যায় প্রায় ৫০%। সেক্ষেএে ডব্লিউ-ডি-এস WDS (Wireless distribution system) এই সমস্যার সমাধান করে।

 

পোস্টটি কেমন লাগলো জানাতে মন্তব্য করতে পারেন। এছাড়া ও আরো কি কি বিষয়ে পোস্ট চান সেই বিষয়ে মন্তব্য করুন।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া