Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post_25.html

গুগল ড্রাইভের সেরা ৭টি টিপস!

 গুগল ড্রাইভ (Google Drive), এক কথায় আমাদের জীবনকে বাড়তি গতিময়তা দিয়েছে। এটি ব্যাখ্যা করতে হলে আপনাকে ছোট একটা উদাহরণ দিতে হবে। ধরুন আপনি আপনার প্রিয় ল্যাপটপটিতে বসে রাতভর একটা প্রজেক্টের কাজ করলেন, যেটা কাল সকালে আপনার প্রেজেন্টেশন করতে হবে।

আপনি অনেক পরিশ্রম করে কাজটি রাতের মধ্যে কমপ্লিট করলেন। এবং সকালে আপনি যথারীতি অফিসে গেলেন এবং আপনার প্রেজেন্টেশন শুরু হবে, এমন সময় আপনি আপনার ল্যাপটপটি ওপেন করতে গেলেন কিন্তু সেটি দুর্ভাগ্যবশত ওপেন হচ্ছে না। কিংবা আপনার রাতভর কাজ করা ফাইলটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ডিলেট হয়ে গেল।

তখন কি হবে? আপনার সারা রাতের পরিশ্রম সব বিফলে চলে গেল। কিন্তু এখন গুগল ড্রাইভ (Google Drive) এর কল্যাণে আপনাকে সেইরকম কোন বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হবে না। আপনি আপনার প্রজেক্ট ফাইলটি গুগল ড্রাইভে (Google Drive) আপলোড করে রাখুন, আর নিশ্চিন্তে থাকুন।

আপনার ডিভাইসের যাই হয়ে যাক, অন্তত আপনার পরিশ্রম বিফলে যাবে না। এটি তো বললাম এর একটি চমকের কথা। গুগল ড্রাইভের  এমন আরো ৭টি চমক নিয়ে আপনাদের সাথে আজ কথা বলব।

 

১। ও সি আর (OCR) এর মাধ্যমে ইমেজ থেকে টেক্সট

গুগল ড্রাইভে ও সি আর (OCR)বা 'অফটিক্যাল ক্যারেক্টার রেকোগনেশন' নামক একটি ফিচার আছে। যার মাধ্যমে আপনি একটি ছবির সব লেখাকে মুহূর্তে এডিটেবল করে ফেলতে পারবেন।

চলুন এটি কিভাবে করে তা ধাপে ধাপে দেখে নিই।

প্রথমে আপনার কাঙ্ক্ষিত ছবি বা পিডিএফ ফাইলটির উপর রাইট বাটন ক্লিক করুন, অতঃপর Open with->Google Docs এ ক্লিক করুন। 


 Google Docs ফাইলটি ওপেন হবার সাথে নিচে এডটেবল টেক্সট ও চলে আসবে। তারপর আপনার প্রয়োজন মত এডিট করে নিবেন। 

২। ইমেজ রিডিং

ধরুন, আপনার আপলোড করা ইমেজে কোথাও কোন পাহাড়-পর্বতের ছবি আছে। কিন্তু আপনি তা অনেক আগে আপলোড করেছেন। এখন আপনি শত শত পিকচারের মধ্যে কোথায় খুঁজতে যাবেন।

এক্ষেত্রে গুগল তার ইমেজ গুলো তে কি বিদ্যমান তা বলে দিতে পারে। আপনি শুধু 'Mountain' লিখে সার্চ দিন আর যতগুলো পাহাড় পর্বতের ছবি আছে সব চলে আসবে।

৩।স্ক্যানিং পিডিএফ

কেমন হবে যদি আপনি গুগল ড্রাইভ (Google Drive) ব্যবহার করে একটি বই এর পাতার উপর ধরলেন আর সাথে সাথে এটি পিডিএফ হিসেবে আপনার ড্রাইভে আপলোড হয়ে গেল! চমৎকার হবে, তাই না?

এর জন্য প্রথমে আপনার মোবাইল এর গুগল ড্রাইভ ওপেন করে '+' এ ক্লিক করে 'Scan' বাটনে চাপ দিন। যথাসম্ভব পরিস্কার করে ক্যাপচার করুন।



 অতঃপর সেটি নিজে নিজে পিডিএফ ফাইলে তৈরি হয়ে আপনার ড্রাইভে আপলোড হয়ে যাবে।


আর আপনি প্রয়োজনে। গুগল ডকুমেন্টস থেকে আমাদের ১নং টিপস অনুসরণ করে আবার সেখান  থেকে আপনার প্রয়োজন মতো এডিট করতে পারবেন।

৪।শেয়ার ফোল্ডার

আপনি একটি ফোল্ডার ক্রিয়েট করে এর মধ্যে আপনাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করলেন। আর এটি শেয়ার করলেন আপনার বন্ধুর সাথে, ফলে আপনি এই ফোল্ডারে পরবর্তী যেকোনো সময়ে যা কিছু রাখবেন সব আপনার বন্ধু দেখতে পারবে।


আর যদি আপনি লিংক পারমিশনে “Anyone with the link” এ ক্লিক করেন।


তাহলে আপনার বন্ধু এটি সবার সাথে শেয়ার করতে পারবে। এবং এই লিংকে প্রবেশ করে যে কেউ উক্ত ফোল্ডার ভিজিট করতে পারবে। 

 

৫। অফলাইন সেটআপ

গুগল অ্যাপস এবং গুগল ড্রাইভ (Google Drive) এগুলি ক্লাউড বেস অ্যাপ। তার মানে আপনাকে যদি এখানকার কোন কিছু সম্পাদনা করতে হয়। তাহলে আপনার ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। কিন্তু এটির বিকল্প ব্যবস্থা ও তারা করে দিয়েছে। (এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে গুগল কর্তৃপক্ষ আপনাকে স্কুল অ্যাকাউন্টস হিসেবে অনুমোদন দিতে হবে।)


এর জন্য আপনি গুগল ড্রাইভের উপরে অবস্থিত “Settings” এ ক্লিক করতে হবে। এবং উপরের ছবির মত  অফলাইন অফশনটি সিলেক্ট করে নিতে পারবেন।

 

৬। শেয়ার উইথ মি

“Shared with me” এটা কোন ফোল্ডার নয়। আর এটাকে নিজের চাহিদা মত মোডিফাই করাও যায় না। এটা হচ্ছে আপনাকে শেয়ার করা ফাইলগুলো। 

আপনি এগুলোকে চাইলে আগে “Add to My Drive” এ ক্লিক করে আপনার ড্রাইভে নিয়ে এসে তারপর ইচ্ছেমত মোডিফাই করতে পারবেন।

 

৭। একটিভিটি প্ল্যান

আপনি সম্প্রতি কি কি করেছেন তার সম্পূর্ণ তালিকা দেখতে পারবেন এখান থেকে। কতগুলো ছবি আপলোড করেছেন। কতগুলো ডিলেট করেছেন। এবং প্রয়োজনে সময় এবং তারিখ সহ দেখতে পারবেন।


এটি দেখার জন্য আপনাকে 'i' বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবং সেখান থেকে 'Activity' তে ক্লিক করলে সব দেখতে পাবেন। 

এই ছিল আজকের গুগল ড্রাইভের সেরা ৭টি টিপস সম্পর্কে আলোচনা। এছাড়া এমন আরো অনেক টিপস পেতে অর্ডিনারি আইটি র সাথে যুক্ত থাকুন। 

 


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া