Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post_71.html

বিমানে মোবাইল ব্যবহার নিষেধ কেন?

 “দয়া করে আপনার মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসটিতে ফ্লাইট মোড অন করুন অথবা সুইচ অফ করুন” যারা জীবনে অন্তত একবার হলেও বিমান ভ্রমণ করেছেন, তারা এই কথাটির সাথে পরিচিত। আর যারা প্রায়ই বিমান  ভ্রমণ করেন তাদের নিশ্চয় এটি শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।

চলুন আজ জেনে নিই কেন আসলে বিমানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। 

কেন ফোন সুইচ অফ বা ফ্লাইট মোড করতে হয়?

প্রথমত, আপনি যখন বিমানে আরোহণ করবেন, এবং আপনাকে সহ আরো যাত্রী নিয়ে বিমান উড্ডয়নের জন্য বা টেক অফ (Take-Off) করার জন্য প্রস্তুত হবে, তখন বিমানের পাইলটরা নেভিগেশন সিস্টেমের মাধ্যমে ATC (Air traffic control) এর সাথে যোগাযোগ করে।

 

যাতে সফল ভাবে বিমান আকাশে উড়তে পারে। এই যোগাযোগ টা তারা করে থাকে ফ্রিকোয়েন্স ওয়েব ট্রান্সমিশন এর  মাধ্যমে।

এবার আসি পরের ব্যাখ্যায়, আপনি যখন বিমান উড্ডয়ন করবেন, তখন বিমান যত উপরে উঠতে থাকে আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক তত কমতে শুরু করে। আর আপনার ফোন তার সিগন্যাল ফিরে পাবার জন্য তার উচ্চ ফ্রিকোয়েন্স ব্যবহার করে থাকে।


এই ক্রিটিক্যাল মুহূর্তটাতে আপনার ফোনের ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েব এবং তাদের বিমানের নেভিগেশনের ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েবের  মধ্যে একটা সংঘর্ষ তৈরি হয়।  যার ফলে পাইলটরা ATC (Air traffic control)  এর সাথে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা আপনি কোনভাবেই চাইবেন না।

 ফোন সুইচ অফ করার বিষয়টি না হয় বুঝলাম, যে ফোন বন্ধ করা। কিন্তু ফ্লাইট মোড (flight Mode) কি তা অনেকেই হয়ত জানেন না। আমরা আগে ফ্লাইট মোড সম্পর্কে জেনে নিই.

 

ছবিতে চিহ্নিত যেই আইকন টি দেখতে পাচ্ছেন. সেটাই হলো ফ্লাইট মোড আইকন।

 ফ্লাইট মোড কিভাবে কাজ করে?

 আপনি যদি ফ্লাইট মোড অন করেন, তাহলে আপনার ফোনের সকল সিগন্যাল বেস সিস্টেম গুলো যেমন, ব্লুটুথ, ওয়াই ফাই ও জিএসএম  ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। 

 অর্থাৎ এগুলো আর কাজ করবে না। আর যদি এসব কাজ না করে তাহলে বিমানের ফ্রিকোয়েন্সিতে ব্যাঘাত হবার ও কোন সম্ভাবনা নেই।

ফ্রিকোয়েন্সির সমস্যার জন্য কি বিমান বিধ্বস্ত হয়?

যদিও এর উত্তরে আপাতত 'না' থাকছে। সরাসরি যাত্রীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার হয়ত কোন বিমান বিধ্বস্তের কারণ হয়নি। কিন্তু একটি বিমানের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হচ্ছে টেক অফ (Take-Off এবং ল্যান্ডিং(Landing) এর সময়। আর এই সময়টাতে পাইলট তাদের নেভিগেশন সিস্টেমের মাধ্যমে ATC (Air traffic control) এর সাথে যোগাযোগ করে থাকে।

আর এই যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসটি পাইলটদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চায়।

এখন আপনার হয়ত মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এত বড় আর দামী বিমান আমার সামান্য একটা ফোনের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে পেরে উঠছে না? এতেই সে বিধ্বস্ত হবার জোগাড়?

 চলুন এটি একটু বিস্তারিত বলি। ধরুন একটি বিমানে ৪০০ জন যাত্রী উঠল। তাদের মধ্যে ২০০ জন তাদের মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বন্ধ করল আর বাকি ২০০ জন তা বন্ধ করল না।

 

 বাকি ২০০ জন তাদের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলি বন্ধ না করায়, উড্ডয়নের সময় ফোন গুলি তাদের সর্বোচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করছে।

ধরলাম ২০০ জন যাত্রী তে ২৫০ ডিভাইস ছিল। তাহলে ২৫০ টা ডিভাইস একসাথে যখন তাদের নেটওয়ার্ক খুঁজতে থাকে,এবং সর্বোচ্চ ফ্রিকোয়েন্স ব্যবহার করে, তখন সেখানে একটা ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। 

যা নেভিগেশনের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে সংঘর্ষ করার জন্য যথেষ্ট। ১৯৯১ সালে FCC বা Federal Communications Commission’ বিমানে মোবাইল ব্যবহার এর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

 ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের পাইলট আট মাইল উপরে উঠার পরে সে লক্ষ্য করল যে তাকে বিপরীত ডিরেকশনে যেতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে একজন যাত্রী তার পোর্টেবল DVD প্লেয়ার অন করে রেখেছে।

বিমানে কী ব্যবহার করা যাবে?

যে সকল ডিভাইসে ব্লুটুথ, ওয়াই ফাই ও জিএসএম নেই, সে সকল ডিভাইস আপনি নিশ্চিন্তে চালাতে পারেন। যেমন, ঘড়ি, ক্যামেরা। এছাড়া ল্যাপটপ ও চালাতে পারেন তবে উপরের কথাটি খেয়াল রাখতে হবে। যেন আপনার ডিভাইস ফ্লাইট মোড (Flight Mode)থাকে।

আপনার কি ইন্টারনেট সংযোগ খুব জরুরী?

এমন কেউ থাকতে পারে, যার ইন্টারনেট ব্যবহার এক প্রকার জরুরী ই। কোন সমস্যা নেই বর্তমানে ইন-ফ্লাইট ওয়াই ফাই সার্ভিস এর অনেক বিমান আছে। যেগুলোর ভেতরে ব্রডব্যান্ডের লাইন আছে এবং আপনি সেখান থেকে নির্বিঘ্নে ইন্টারনেট চালাতে পারেন, এক্ষেত্রে বিমানের নেভিগেশন সিস্টেমের কোন ক্ষতি হবে না।

তবে বিমানের এই সুবধাটি ভোগ করার জন্য আপনাকে কিছু বাড়তি টাকা গুনতে হবে।

 ফোন খোলা রাখার শাস্তি কি হতে পারে?

আমেরিকান অভিনেতা ‘Alec Baldwin’ একবার নিউইয়র্ক থেকে এক ফ্লাইটে উঠেছিলেন এবং সেখানে তিনি তার প্রিয় গেমটি খেলছিলেন। তাকে বার বার বলার পরেও তিনি তা বন্ধ করেননি। আর অবশেষে এমন নিয়ম ভঙ্গের জন্য তাকে ওই ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল।

 

 

 

 


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া