Borhan IT https://www.borhanit.com/2020/12/blog-post_82.html

পুরাতন পোস্ট পুনরায় পাবলিশ করতে হলে যা করবেন

 এমনটা ভাবা বোকামি হবে যে আপনি যে ব্লগই প্রকাশ করবেন সেটাই বিরাট হিট হবে অডিয়েন্সের মাঝে। এমনকি আপনি যদি প্রচুর কিওয়ার্ড রিসার্চ করেও লিখেন তবুও এমনটার নিশ্চয়তা নেই যে লেখাটি সফলতার মুখ দেখবেই। অনেকসময়ই বিভিন্ন সাইটের ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরোনো অনেক পোস্ট যেগুলো তখনকার সময়ে ততটা সফল না হলেও, সেগুলোকে নতুন পদ্ধতিতে পুনরায় পাবলিশ করার ফলে আশানুরূপ সফলতা পেয়েছে। নতুন করে পাবলিশ করাটা কেন জরুরি, কিভাবেই বা এটা পুরোনো পাবলিশড পোস্টকে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এসবকিছু নিয়েই লিখছি আজকের আর্টিকেল। চলুন, নতুন করে পোস্ট পাবলিশের বিস্তারিত জেনে নিই ধাপে ধাপে।



১. কম পারফর্ম করতে পেরেছে এমন পোস্ট খুঁজুন

যদি আপনার কোনো পোস্ট ইতোমধ্যে ভালো করছে মনে করেন, তাহলে সেটাকে পুনরায় পাবলিশ করবেন না। এতে ভালোর চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে। সুতরাং খুঁজতে হবে এমন পোস্ট যেগুলো ranking এ নিচে পড়ে আছে মেইন কিওয়ার্ডের জন্য।

আপনি কিওয়ার্ডগুলো পাবেন Google Search Console এ। কেবল সার্চ রেজাল্টে গিয়ে এভারেজ পজিশন সিলেক্টর অন করে দিন ও কিওয়ার্ডের জন্য রিপোর্টগুলো ফিল্টার করুন। 



একটা প্রিসাইজ ranking ডাটার জন্য আপনার ব্লগটিকে পেস্ট করতে পারেন Site Explorer সাইটেও। এরপর টপ পেইজগুলো ভিজিট করুন যারা সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক পাচ্ছে।



দেখতে থাকুন যে কি কি কিওয়ার্ড ব্যবহারের কারণে কোনো পোস্ট rank এ নজছে থাকছে, আপনিও ওগুলো ইউজ করবেন না। সহজ হবে URLTop keyword এবং Position columns এর দিকে খেয়াল রাখলে।



মনে রাখবেন আপনার কিওয়ার্ডগুলো অর্থপূর্ণ কোনকিছু টার্গেট না করলে, এই পোস্টটি পুনরায় পাবলিশ করার উপযুক্ত না ধরে নিন।

২. পোস্টটি যেন নতুন না হয়

সম্প্রতি পাবলিশ হওয়া কোনো পোস্ট নতুন করে পাবলিশ করার কোনো অর্থ হয় না। ব্যাকলিংকের কাজ শুরু হতে কিছুটা সময় লাগে। সুতরাং বেছে নিন একটু পুরোনো পোস্ট।


৩. ব্যাকলিংক ফ্যাক্টরগুলো ঠিক করুন

কন্টেন্টের জন্যই যে সবসময় পোস্ট rank করতে পারছে না তা নয় বরং মাঝে মাঝে হাই কোয়ালিটি ব্যাকলিংক ও লিংক অথরিটির কারণেও হতে পারে। সেটা চেক করার জন্য আপনার কিওয়ার্ড সার্চ করুন Keywords Explorer এ। এরপর আপনার চর্যে এগিয়ে থাকা পেইজগুলোর ডোমেইন রেটিং, URL রেটিং চেক করুন। একটি সাইটের জন্য "guest blogging" ফ্রেজটি সার্চ করলে প্রাপ্ত রেজাল্ট আসে এমন -


আবার how to improve SEO সার্চ করে পাওয়া যায় ভিন্ন রেজাল্ট যেখানে এই সাইটটিকে পেছনে ফেলা সবারই UR স্কোর বেশ ভালো।

৪. আপনার পোস্ট যেন পাঠকের চাহিদা মেটাতে পারে

Search intent হলো সেই জিনিস যা থেকে মূলত একটা কিছু কেউ সার্চ করে থাকে। যে ধরনের কমটেন্ট মানুষ বেশি চায়:

১. How-to 
২. টিউটোরিয়াল
৩. লিস্ট পোস্ট
৪. গাইডমূলক পোস্ট
৫. মতামত প্রদানমূলক
৬. বর্ণনামূলক (যেমন: অমুক কী? কী কী ধরনের আছে; এরকম পোস্ট)

পূর্ববর্তী উদাহরণগুলোর দিকেই যদি তাকাই, আমরা দুইটি মেইন ফরম্যাট দেখবো: বর্ননামূলক ও গাইডমূলক।



এবার দেখতে হবে আপনার কন্টেন্ট মানুষ কেন ক্লিক করবে অর্থাৎ আপনার কন্টেন্টের আকর্ষণটা কোথায়। দেখুন - 
১. বিগিনার গাইড
২. কমপ্লিট গাইড
৩. টপ লিস্ট


এখন গেস্ট ব্লগিং নিয়ে একটা পোস্ট আমরা রিপাবলিশ করলে কোন ফরম্যাট বেছে নেন বলুন তো? বর্ণনামূলক নেব। কেননা এধরনের পোস্ট কমপ্লিট গাইড আকারে rank কম পায়! যদিও কোনো সাইটের বিজনেস ভ্যালু ও কন্টেন্টের গভীরতার দিক বিবেচনায় কমপ্লিট গাইডও নেয়া যায় সাইট বিশেষে।



৫. টপ ranking পেইজ এনালাইসিস করুন

ধরুন আমরা এখন গেস্ট ব্লগিং সম্বন্ধে কমপ্লিট গাইড ফরম্যাটের কিছু পেইজ এনালাইসিস করতে যাচ্ছি, কেননা সেগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারব কন্টেন্টটা কিভাবে দিলে মানুষ পছন্দ করছে বেশি। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড যেতে হবে এমন না, হেডিং ট্যাগগুলোতে চোখ বুলিয়ে এগুতে থাকলেই স্ট্রাকচারটা বুঝতে পারা যাবে।


প্রসেসটির স্পিড বাড়িয়ে নিতে ইনস্টল করে নিতে পারেন SEO toolbar এবং চেক করুন অন পেইজ রিপোর্ট। এটি অন্যান্য তথ্যের মধ্য থেকে হেডিং ট্যাগগুলোকে তুলে ধরে।



আমরা যদি কাজটি তিনটা গাইডের জন্য করি ও প্রাপ্ত ফলাফল স্প্রেডশিটে বসাই তাহলে অনেক কিছুই কমন দেখতে পাব।



প্রতিটি গাইডই দেখাচ্ছে গেস্ট ব্লগিংয়ের অপরচুনিটিস সম্বন্ধে, পিচ তৈরি সম্বন্ধে। এছাড়াও দুটিতে পাওয়া যায় পোস্ট রাইটিং ও রেজাল্ট ট্র্যাকিংয়ের কথা।

আরেকটি উপায় হচ্ছে কন্টেন্ট গ্যাপ এনালাইসিস। এক্ষেত্রে Content Gap tool এ কয়েকটি টপ ranked পেইজের URL পেস্ট করে দেব। নিচের ফিল্ডটি খালি রেখে Show keywords চাপবো।



আপনি বেশ কয়েকটি কিওয়ার্ডস দেখতে পাবেন যেগুলোর কারণে পেইজটি rank পেয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন গেস্ট ব্লগিং নিয়ে কোনো পোস্ট পুনরায় পাবলিশ করতে চাইলে আপনাকে এগুলো মাথায় রাখতে হবে।

৬. আপনার ব্যাকলিংক প্রোফাইল এনালাইজ করুন

পোস্ট পুনরায় পাবলিশের ক্ষেত্রে অনেকেই যে ভুলটা করেন তা হচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লিংক যোগ্য পয়েন্ট বাদ দিয়ে দেন। একারণে পাবলিশের আগে চেক করে নিতে হবে আমাদের ব্যাকলিংক প্রোফাইল।

যেভাবে করবেন:

URL টি পেস্ট করবেন Site Explorer এ, ব্যাকলিংক রিপোর্টে যান এবং কমন লিংক রিজন খুঁজুন Anchor and Backlink কলামে।



আরো কারা এই স্ট্যাটিসটিক্সের মাধ্যমে আমাদেরকে লিংক করেছেন তা জানার জন্য “20” মেনশন করা রিপোর্টগুলো ফিল্টার করি।



ছবি সংগৃহীত: Ahrefs.com

এর মাধ্যমে বর্তমান লিংকগুলোর সামঞ্জস্যতা বুঝতে পারব এবং নতুন কোনো লিংক প্রয়োজন হলে সেটাও জানতে পারবো।

৭. পোস্টটি পুনরায় পাবলিশ করুন

একদম সহজ। প্রথমে আপনার সাইটের CMS এ লগিন করুন  এবং পুরাতন পোস্টটি ডিলেট করে নতুন কন্টেন্ট দিন। URL টি একই রাখুন, কিন্তু টাইটেল এবং og tag গুলো আপডেট করুন এবং পাবলিশ ডেটটি চেন্জ করে নতুনটি বসিয়ে দিন।

পুনরায় পাবলিশ হোক কম সফল পোস্টগুলো

ব্লগিং অনেকেই করে থাকি, পোস্ট করি অনেক লেখা। সব লেখা সফল হয় না, পিছনে পড়ে থাকে কম ট্রাফিক নিয়ে। সেগুলোকে পুনরায় চাঙ্গা করে তোলার একটা উপায় হচ্ছে পুনরায় পাবলিশ করা। আর সেটা কিভাবে করা যায় তারই একটা বিস্তারিত লেখা ছিল আজকের আর্টিকেলটি। আশা করি আপনাদের সবার ভালো লেগেছে। সেক্ষেত্রে, লেখাটি শেয়ার করে দিতে পারেন ও কমেন্ট করে মতামত জানাতে পারেন। সকলের সর্বাঙ্গীন সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া